খাজা আসিফ অভিযোগ করে বলেছেন, কাবুল জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে এবং সীমান্তপারের হামলার ক্ষেত্রে চোখ বন্ধ করে রেখেছে। অন্যদিকে আফগানিস্তান পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, পাকিস্তান বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে ‘‘ড্রোন যুদ্ধ’’ চালাচ্ছে এবং আইএস জঙ্গিদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে নীরব রয়েছে।
ইস্তাম্বুলে আফগান প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির গোয়েন্দা প্রধান আবদুল হক ওয়াসিক। তার সঙ্গে রয়েছেন তালেবান সরকারের জ্যেষ্ঠ নেতা আনাস হাক্কানি, কাতারে নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত সুহাইল শাহিন, উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রহমতুল্লাহ নাজিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল কাহার বালখি।
পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও আইএসআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুহাম্মদ আসিম। আলোচনায় সীমান্ত সংঘর্ষ, ড্রোন অভিযান এবং পাকিস্তানের বাণিজ্যিক সীমান্ত বন্ধ রাখার মতো ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সীমান্ত বন্ধ থাকায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়েছে।
এদিকে, কূটনৈতিক উত্তেজনার মাঝে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের এক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দার দাবি করেছিলেন, আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুতাকি এক দিনে তাকে ছয়বার ফোন করেছিলেন। কাবুল এই বক্তব্যকে ভিত্তিহীন ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, সংঘাতের সময় পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মাত্র দু’বার যোগাযোগ হয়েছিল।
গত ৩০ অক্টোবরের যৌথ বিবৃতিতে তুরস্ক ও কাতার শান্তি আলোচনায় উভয়পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রশংসা করেছিল। পাশাপাশি বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, শান্তি নির্ভর করছে জবাবদিহিতা ও সংযমের ওপর। মধ্যস্থতাকারীরা এবার যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘনের ঘটনায় তদন্ত ও শাস্তি নিশ্চিতে যৌথ তদারকি প্রক্রিয়া গঠনের প্রস্তাব করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক হুমকি ও কাবুলের পাল্টা অবস্থানের প্রেক্ষাপটে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে ইস্তাম্বুল বৈঠক। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, উভয়পক্ষ যদি উসকানিমূলক বক্তব্য ও সীমান্ত সংঘাত নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সম্ভাবনা আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই ভেস্তে যেতে পারে।