শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন

আফগান সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান, নিহত ২৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক নিউজ
আপডেট : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

আফগানিস্তান সীমান্তে এক অভিযান চালিয়েছে পাকিস্তানের সেনা-পুলিশ নিরাপত্তা বাহিনী। রোববার রাতে পরিচালিত সেই অভিযানে ২৯ জন নিহত হয়েছেন।

নিহত এই সন্ত্রাসীরা সবাই পাকিস্তানের নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপির সদস্য ছিল। আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনীর আদর্শে আড়াই দশক আগে পাকিস্তানে গঠিত এই দলটিকে বেশ কয়েক বছর আগে নিষিদ্ধ করেছে পাকিস্তানের সরকার। সরকারিভাবে এই গোষ্ঠীকে ‘ফিৎনা আল খারিজি’ বলা হয় পাকিস্তানে। আতালউল্লাহ তারারও তার এক্সবার্তায় নিহতদের ফিৎনা আল খারিজির সদস্য বলে উল্লেখ করেছেন।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শনিবার রেঞ্জার্স সদর দপ্তরে সন্ত্রাসীরা হামলার করলে পাল্টা হামলা শুরু করেন রেঞ্জার্স সদস্যরা। তাদের হামলায় ৩ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে ১ জন। আহত সেই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা ‘জামাতুল আখবার’ নামে একটি পৃথক গোষ্ঠীর সদস্য। এই গোষ্ঠীটি টিটিপিরই একটি শাখা গোষ্ঠী।

পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য খাইবার পাখতুনখোয়ার ৪০টি জেলার মধ্যে যে ৯টি জেলার সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে পাকিস্তানের; বাজউর সেসবের মধ্যে অন্যতম। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারের এক্সবার্তা থেকে জানা গেছে, রোববারের অভিযানে বাজাউর জেলার সীমান্তের ওপারে টিটিপি ওরফে ‘ফিৎনা আল খারিজি’ এবং জামাতুল আহরারের জঙ্গিদের আস্তানা এবং স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে টিটিপির উচ্চপর্যায়ের কমান্ডার খান ফারোশ আকা জাবাল নিহত হয়েছেন বলে এক্সবার্তায় জানিয়েছেন তারার। খান ফারোশ আকা জাবাল জামাতুল আহরারের শীর্ষ সংগঠক ছিলেন বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী।

গত কয়েক বছরে এ ইস্যুতে দুই দেশের কর্মকর্তা ও মন্ত্রী পর্যায়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে; কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সীমান্তে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা এবং কয়েকজন সেনাকে জীবিত অবস্থায় অপহরণ করে নিয়ে যায় আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী।

এ ঘটনার পরপরই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করে পাকিস্তান। পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ ঘোষণা করেন, হামলার জবাব দিতে অপহৃত সেনাদের উদ্ধারে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।

রোববারের এক্সবার্তায় আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, বাজাউর সীমান্তে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী যে অভিযান চালিয়েছে, তা অপারেশন গজব-লিল হকের অংশ।


এই বিভাগের আরো খবর