ডিসেম্বর ২০২৪: তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছিল, পরিষদীয় দলের বৈঠকে পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘অসন্তোষ’ প্রকাশ করেছেন। শাসকদলের একাধিক সূত্র দাবি করেছিল, বৈঠকে মমতা বলেছিলেন, ও সব ‘প্যাক-ফ্যাক’ তিনি বোঝেন না। এ সব করে তাঁর কাছে অনেক ভুল তথ্য পৌঁছেছে।
ফেব্রুয়ারি ২০২৫: সেই মমতাই গত বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোরের সভায় পরামর্শদাতা সংস্থাকে ‘আমার আইপ্যাক’ বলে সম্বোধন করছেন। তার পর এ-ও বললেন, “এটা পিকের (প্রশান্ত কিশোর) আইপ্যাক নয়। ওরা (পিকে) একটা রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। এরা একটা নতুন টিম। এদের সহযোগিতা করতে হবে। এদের নামে উল্টোপাল্টা বলা বন্ধ করুন। কাজটা সবাইকে মিলে করতে হবে।”
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং বুঝতে পেরেছেন, ভোট লড়তে গেলে পেশাদার সংস্থার প্রয়োজন। সে আইপ্যাকই হোক বা অন্য কোনও সংস্থা। সে দিক থেকে দেখতে গেলে পশ্চিমবঙ্গে আইপ্যাক ‘পরীক্ষিত’। ভোটের বাকি আর এক বছর। তখন নতুন কোনও সংস্থাকে রাজ্যে এনে কাজ করাতে গেলে তাদের রাজ্য চিনতে চিনতেই সময় চলে যাবে। সেই সূত্রেই অনেকে দিল্লির ভোটে আপের উদাহরণ দিয়ে বলছেন, নির্বাচনের মাস তিনেক আগে আপ আইপ্যাককে নিয়োগ করেছিল। কিন্তু ভোটের ফলাফল তাদের অনুকূলে যায়নি। যা থেকে স্পষ্ট যে, সময় একটা বড় ‘ফ্যাক্টর’। মমতা বড় রাজনীতিক বলে সেটাও সম্যক অনুধাবন করেছেন। পাশাপাশিই বুঝতে পেরেছেন, আগামী বিধানসভা ভোটে তৃণমূল স্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত আইপ্যাকের সঙ্গে সমন্বয় না-রাখলে ঈপ্সিত ফল পাওয়া যাবে না। সেই কারণেই তাঁর ‘মনবদল’।