বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন

রাত হলেই কাশি বেড়ে যায়? জেনে নিন কারণ ও সমাধান

নিউজ ডেস্ক :
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

বায়ুদূষণ কীভাবে কাশির উদ্রেক করে?

বায়ুদূষণে এমন সব ক্ষতিকারক গ্যাস ও ক্ষুদ্র কণা থাকে, যা শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ করে পিএম২.৫ (PM2.5) বা সূক্ষ্ম বস্তুকণাগুলো ফুসফুসের গভীরে পৌঁছে অস্বস্তি ও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।

রাতে কাশি কেন বেড়ে যায়?

গলার পেছনে শ্লেষ্মা জমা হওয়া

শুয়ে পড়লে নাক ও সাইনাস থেকে শ্লেষ্মা গলার পেছনের দিকে নেমে আসতে পারে। একে বলা হয় পোস্ট-নাসাল ড্রিপ, যা বারবার কাশির উদ্রেক করতে পারে। যাদের অ্যালার্জি, সাইনাসের সমস্যা বা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়।

হাঁপানির লক্ষণ বেড়ে যাওয়া

দ্য টোকাই জার্নাল অফ এক্সপেরিমেন্টাল অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল মেডিসিন-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, হাঁপানিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের লক্ষণগুলো রাতে আরও খারাপ হতে পারে, কারণ ঘুমের সময় শ্বাসনালি অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। দিনের বেলা দূষণের কারণে শ্বাসতন্ত্রে আগে থেকেই অস্বস্তি থাকলে, তা রাতে কাশি, শ্বাসকষ্ট বা বুকে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণে গলায় অস্বস্তি

শুয়ে পড়লে পাকস্থলীর উপাদানগুলো খাদ্যনালি ও গলার দিকে উঠে আসার প্রবণতা বেড়ে যায়। অ্যাসিড রিফ্লাক্স (acid reflux) নামক এই শারীরিক অবস্থাটি অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং কাশির উদ্রেক করতে পারে, বিশেষ করে দেরিতে বা ভারী খাবার গ্রহণের পর।

ঘরের ভেতরের দূষক উপাদানগুলো অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তোলে

বাইরের দূষণের সংস্পর্শ থেকে বাঁচতে ঘরে ফিরে এলেও বিপদ পুরোপুরি কাটে না। সিগারেটের ধোঁয়া, ধূপ, মশার কয়েল, রান্নার ধোঁয়া এবং ধূলিকণা শ্বাসতন্ত্রে আরও অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। বাইরের দূষণের কারণে যদি আপনার শ্বাসনালীতে আগে থেকেই প্রদাহ থাকে, তবে ঘরের ভেতরের এই উপাদানগুলো আপনার কাশিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

অতিরিক্ত দূষণের দিনে রাতের বেলা কাশি কমানোর উপায়

কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে দূষক উপাদানের সংস্পর্শ কমানো যায় এবং গলার অস্বস্তি থেকে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া সম্ভব।

স্থানীয় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) বা বায়ুমান সূচক পরীক্ষা করুন: দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে বাইরে ব্যায়াম করা বা দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকা এড়িয়ে চলুন। সম্ভব হলে ঘরের ভেতরে অপেক্ষাকৃত নির্মল পরিবেশে ব্যায়াম করুন।

ঘরের ভেতরের বায়ুর মান উন্নত করুন: বাইরে যখন দূষণ খুব বেশি থাকে, তখন ঘরের ভেতরের বাতাস যদি বাইরের তুলনায় পরিষ্কার হয়, তবে জানালা বন্ধ রাখুন। সম্ভব হলে HEPA ফিল্টারযুক্ত উপযুক্ত এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন।

ঘরের ভেতরে অস্বস্তিকর উপাদান এড়িয়ে চলুন: ঘরের ভেতরে ধূমপান করবেন না; এছাড়া পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নেই এমন কক্ষে ধূপ বা মশার কয়েল জ্বালাবেন না। ধুলোবালি কমানোর চেষ্টা করুন এবং রান্নার ধোঁয়ার সংস্পর্শ যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: পর্যাপ্ত পানি পান করলে গলার অস্বস্তি কমে এবং শ্লেষ্মা বা কফ খুব বেশি ঘন হয়ে যাওয়া রোধ করা যায়।
শোয়ার ভঙ্গিতে পরিবর্তন আনুন: যদি পোস্ট-নেজাল ড্রিপ (নাক থেকে গলার ভেতর শ্লেষ্মা পড়া) বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণে কাশি হয়ে থাকে, তবে শোয়ার সময় মাথা কিছুটা উঁচুতে রাখলে আরাম পাওয়া যেতে পারে।

বিদ্যমান শারীরিক সমস্যার সঠিক ব্যবস্থাপনা: যাদের হাঁপানি (অ্যাজমা) আছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা মেনে চলা উচিত এবং ওষুধ হাতের কাছে রাখা প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বন্ধ করবেন না বা পরিবর্তন করবেন না।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে আসার পর মাঝে মাঝে কাশি হওয়াটা স্বাভাবিক; অস্বস্তি কমে গেলে সাধারণত এই কাশিও সেরে যায়। তবে দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার ফিরে আসা কাশির কারণ কেবল দূষণই হতে পারে এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

যদি আপনার কাশি তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, বারবার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় অথবা বারবার ফিরে আসে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এছাড়া তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, কাশির সঙ্গে রক্ত ​​পড়া বা ঠোঁট নীল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিন।


এই বিভাগের আরো খবর