মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০১:১৩ পূর্বাহ্ন

ফলতার মুসলিম ভোট তৃণমূলকে চারে দুইয়ে সিপিএম-কে

আপডেট : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬

এই ভরা জোয়ারের মধ্যে বিজেপির ফলতা জয় নিয়ে কোনও সংশয়ই ছিল না।

কৌতূহল ছিল ফলের ভিতরকার বিবিধ অঙ্ক নিয়ে। ৭০ শতাংশের মতো হিন্দু ভোটারের আসনে কত ভোট পাবে বিজেপি? পুনর্নির্বাচনের ময়দান ছেড়ে ‘পালানো’ তৃণমূলকে এর পরেও কত মানুষ ভোট দেবেন? দু’বছর আগে ৮৯ শতাংশ ভোট পাওয়া দল কি দ্বিতীয় স্থানেও থাকবে? না কি অন্য কেউ উঠে আসবে? এলে কারা? সংখ্যালঘু ভোটারেরা কি তৃণমূলের বিকল্প দল খুঁজতে শুরু করে দিয়েছেন? এমন বেশ কিছু প্রশ্ন ছিল। যার উত্তর অনেকাংশে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে গণনা শেষ হতে হতে।তৃণমূল লড়ে হারলে ফলতার ফলাফল থেকে ভবিষ্যতের ইঙ্গিত তুলনামূলক বেশি স্পষ্ট হত অবশ্যই। তা সত্ত্বেও এই ফল গুরুত্বহীন নয়। কারণ, এই পুনর্নির্বাচনেও ৮৮ শতাংশের বেশি মানুষ বুথে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। ফলতার জনবিন্যাসে মুসলিম ভোট রয়েছে উল্লেখযোগ্য। প্রায় ৩০ শতাংশ। বাকিটা মূলত হিন্দু ভোটার। এই ধরনের আসনগুলিতে এত দিন এগিয়ে থাকত তৃণমূল। কারণ, সংখ্যালঘু ভোট এককাট্টা হয়ে তৃণমূলের দিকে থাকত। হিন্দু ভোটের তিন ভাগের এক ভাগের মতো পেয়ে গেলেই জয় নিশ্চিত ছিল। মহিলা হিন্দু ভোটাররা এ ক্ষেত্রে বড় ভরসা ছিলেন মমতার। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের ফল দেখিয়ে দিয়েছে, মুসলিম মেরুকরণের পাল্টা হিন্দু মেরুকরণও হয়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতির বাতাবরণে। ফলে তৃণমূলের ‘নিশ্চিত’ বহু আসন এ বারের নির্বাচনে বিজেপি জিতে নিয়েছে। বিজেপি সরকারে আসার পর এবং গত ২০-২২ দিনে তৃণমূলের ভঙ্গুর দশা বার বার বেআব্রু হয়েছে।
তবে শুধু সংখ্যাগুরু-সংখ্যাগুরু সমীকরণ নয়, ফলতার মতো আসনে গায়ের জোরে ভোট করানোর অভিযোগ অতীতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে উঠেছে। বিশেষত ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে। পুনর্নির্বাচনে লক্ষাধিক ভোটে বিজেপি প্রার্থীর জয়ের পরপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘‘১৫ বছর পরে যখন মানুষ নিজের ভোট নিজে দেওয়ার স্বাধীনতা ফিরে পেলেন, তখন বাস্তব প্রকাশিত হল।’’ একই সঙ্গে শুভেন্দু আঙুল তুলেছেন ২০২৪ সালের দিকে, ‘‘বিগত নির্বাচনকে পরিহাসে পরিণত করে এই বিধানসভা (ফলতা) ক্ষেত্রে দেড় লাখ ভোটের লিড নিয়েছিল তৃণমূল।”
তবে নানা কারণে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক যে তৃণমূলের দিকে মোটামুটি এককাট্টা থাকত তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। তৃণমূল ক্ষমতা হারানোর পর ফলতার পুনর্নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোট কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। বাম কংগ্রেসের নেতারা বলতে শুরু করে দিয়েছেন, তৃণমূলের যা অবস্থা তাতে এই দলটা কত দিন টিকবে সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ফলে সংখ্যালঘু ভোট বাম-কংগ্রেসের দিকে অবধারিত ভাবে আসবে। কিন্তু সেটা যে এত দ্রুত হবে, তা অনেকেরই কল্পনার মধ্যে ছিল না। সে দিক থেকে ফলতার ভোটে সিপিএমের দুই নম্বরে উঠে আসা ভোটের সমীকরণের দিক থেকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। হতে পারে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘরে ঢুকে পড়া’ বা জাহাঙ্গিরের লড়াই থেকে সরে যাওয়া এই পরিবর্তনতে ত্বরাণ্বিত করল।

শেষ পর্যন্ত এক লক্ষেরও বেশি ভোটে ফলতা জিতে নিয়েছে বিজেপি। পদ্মশিবিরের দেবাংশু পাণ্ডা পেয়েছেন ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৬৬ ভোট। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সিপিএমের শম্ভুনাথ। তিনি পেয়েছেন ৪০ হাজার ৬৪৫ ভোট। কংগ্রেস হয়েছে তৃতীয়। তারা পেয়েছে ১০ হাজারের কিছু বেশি ভোট। চতুর্থ স্থানে নেমে আসা তৃণমূল পেয়েছে ৭ হাজার ৭৮৩ ভোট।

পরিবর্তনের পরিবর্তন

এর পরেই নন্দীগ্রাম

 

এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে দু’টি কেন্দ্র থেকে লড়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী— ভবানীপুরে এবং নন্দীগ্রামে। ভবানীপুরে হারিয়েছেন মমতাকে। নন্দীগ্রামেও জিতেছেন শুভেন্দু। তবে নিয়ম অনুযায়ী, একটি আসত তাঁকে ছাড়তেই হত। মমতাকে হারানো ভবানীপুর আসন ধরে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ফলে নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন আসন্ন। পূর্ব মেদিনীপুরের হলদি নদীর তীরে এই জনপদে ফলতার মতোই উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে তৃণমূল কাকে প্রার্থী করে। পাশাপাশি বাম, কংগ্রেস বা আইএসএফের মতো দলগুলির মধ্যে কী বোঝাপড়া হয় নন্দীগ্রামে এবং সেখানে ভোটের ফল কী হয়, সে দিকেও নজর থাকবে। ওই ভোটের ফলাফল থেকেই দক্ষিণবঙ্গের সংখ্যালঘু ভোটের নতুন প্রবণতার বিষয়ে দিশা পাওয়া যাবে।


এই বিভাগের আরো খবর