মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০১:১১ পূর্বাহ্ন

আবার ভোটের মুখে উঁকি দিল আরজি কর!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আপডেট : শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬

এসআইআর নিয়ে হয়রানির অভিযোগ এবং আন্দোলনের তলায় চাপা পড়ে গিয়েছিল টানা ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা, ক্ষোভ-বিক্ষোভ, দুর্নীতির অভিযোগ। তার আগেই শিকেয় উঠে গিয়েছিল আরজি কর আন্দোলনও। শুক্রবার আরজি কর হাসপাতালের ঘটনা আবার স্বাস্থ্য প্রশাসনকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। বিধানসভা ভোটের আগে যা শাসক শিবিরের কাছে ‘অস্বস্তিকর’।

তবে একই সঙ্গে এ-ও ঠিক যে, আরজি কর হাসপাতালে ঘটনা থেকে সে ভাবে ফায়দা তুলতে কোনও বিরোধী রাজনৈতিক দলই ততটা ‘সক্রিয়’ হল না। এলাকার ভোটপ্রার্থী বিরোধী দলের নেতারা হাসপাতালে গেলেন ঠিকই। কিন্তু বড়মাপের নেতারা সমাজমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েই দায় সারলেন। শাসক শিবির অবশ্য পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে আগেভাগে ময়দানে নেমে পড়েছিল। এলাকার তৃণমূল বিধায়ক তথা হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির সদস্য অতীন ঘোষ হাসপাতালে গিয়ে ‘গাফিলতি’র বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতালে নজরদারির অভাব ছিল।
শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি অবশ্য আরজি করের ঘটনার ‘ফায়দা’ তুলতে সে ভাবে মাঠে নামেনি। শুধুমাত্র হাসপাতালে গিয়ে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিজেপি প্রার্থী রীতেশ তিওয়ারি এবং সিপিএম প্রার্থী রাজেন্দ্র গুপ্ত। তবে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একটি বিবৃতি দিয়েছেন। প্রত্যাশিত ভাবেই যাতে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে মমতার প্রশাসনকে। শুভেন্দুর বিবৃতির শিরোনামে লেখা হয়েছে, ‘অভিশপ্ত আরজি কর’। লেখা হয়েছে, ‘রাজ্য প্রশাসনের পচে যাওয়া, জং ধরা কঙ্কালসার চেহারাটা আজ (শুক্রবার) আর আড়ালে নেই, সম্পূর্ণ উন্মোচিত। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের আজকের মর্মান্তিক ঘটনা সেই নিষ্ঠুর বাস্তবতাকেই আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।’ দমদমের অরূপের মৃত্যুর ঘটনাকে ‘অপরিকল্পিত খুন’ বলেও তোপ দেগেছেন বিরোধী দলনেতা। তিনি এ-ও লিখেছেন, ‘আর কত নিরীহ মানুষের প্রাণ গেলে এই নির্বিকার, অযোগ্য প্রশাসনের চেতনা হবে? এই জরাজীর্ণ, দুর্নীতিগ্রস্ত ও ব্যর্থ প্রশাসনকে সরিয়ে নতুন, দায়িত্বশীল সরকারের প্রতিষ্ঠা করা আজ সময়ের দাবি।’
আরজি করের চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় রাজ্য যে ধরনের ধারাবাহিক নাগরিক আন্দোলন দেখেছিল, তা শেষ কবে পশ্চিমবাংলা দেখেছে, তা অনেক প্রবীণও মনে করতে পারেন না। সেই আন্দোলন দলহীন, পতাকাহীন হলেও তাতে সরকার-বিরোধিতার স্বর ছিল তীব্র। ২০২৪ সালের ১৪ অগস্ট ‘মেয়েদের রাত দখল’ এবং তার পর টানা প্রায় তিন মাসের লাগাতার আন্দোলনে রাজপথে যে ভাবে মহিলারা নেমে পড়েছিলেন, তা-ও সাম্প্রতিক অতীতে হয়নি।
কিন্তু শুক্রবারের আরজি করের ঘটনা নিয়ে তেমন কোনও আন্দোলন সংগঠিত হওয়ার সামান্যতম ইঙ্গিতও দেখা যায়নি। অনেকের মতে, এর কারণ দু’টি। প্রথমত, মৃত অরূপ দক্ষিণ দমদম এলাকার সক্রিয় তৃণমূল কর্মী ছিলেন। দ্বিতীয়ত, ওই ঘটনার ২৪ ঘন্টা আগেই আরজি করের নির্যাতিতার মা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তিনি বিজেপির হয়ে পানিহাটি কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়তে আগ্রহী। যা দু’বছর আগের নাগরিক আন্দোলনে যোগদানকারীদের একটি বড় অংশকে ‘নিরুৎসাহিত’ করেছে। ফলে যে আরজি করের আবার অপমৃত্যু হওয়ায় শাসকদলের বড়সড় বিপাকে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেই আরজি কর বলেই এই ঘটনায় আন্দোলন দানা বাঁধার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, গত সাড়ে মাস ধরে রাজ্য রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে এসআইআর-কে ঘিরেই। এই পর্বে শাসক মমতা তাঁর ‘চেনা মাঠ’ তৈরি করে নিয়ে বিরোধীনেত্রী হিসাবে নিজেকে উপস্থাপিত করেছেন। কখনও রাস্তায় মিছিল, কখনও সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে গিয়ে সওয়াল, কখনও ধর্মতলায় টানা পাঁচ দিন ধর্না— বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে একই বন্ধনীতে ফেলে লড়াইয়ের মাঠে নেমে পড়েছিলেন মমতা। ফলে ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতা সামলানোর বদলে মমতা নিজেই ময়দানে নেমে ভিন্ন আখ্যান নির্মাণ করতে পেরেছিলেন। শুক্রবার আরজি কর হাসপাতালের লিফ্‌টে আটকে এক নাগরিকের অপমৃত্যুর পরে নির্বাচনের আবহে নতুন করে আলোচ্য হয়ে উঠেছে আরজি কর।


এই বিভাগের আরো খবর