মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৯ অপরাহ্ন

ক্যানসার ধরা ঠিক পড়বেই, রক্তের এক বিশেষ পরীক্ষায়

নিউজ ডেস্ক :
আপডেট : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শরীরের কোথায়ে লুকিয়ে রয়েছে ক্যানসার, তা ধরা সহজ নয়। কোষে কোষে যতক্ষণ না মারণরোগ ছড়াচ্ছে, আকার পেয়ে বড়সড় হয়ে উঠছে টিউমার, ততক্ষণ তা থাকে নজরের আড়ালেই। সাধারণ রক্তপরীক্ষা বা ক্যানসারের যে সব পরীক্ষা হয়, তাতেও ধরা পড়ে না বেশির ভাগ সময়ে। আবার এমনও দেখা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা চলার পর বা অস্ত্রোপচারের পরেও ক্যানসার কোষ থেকে যেতে পারে শরীরের কোনও আনাচকানাচে। পরবর্তীতে তা-ই আবার নতুন রূপ ধরে ফিরে আসতে পারে। প্রচলিত পেট (পিইটি) সিটি স্ক্যানেও ধরা পড়ে না যে ক্যানসার, সেটিকেই কোষের ভিতরে একেবারে আণুবীক্ষণিক স্তরে ধরতে রক্তের এক নতুন পরীক্ষা এসেছে দেশে।

ক্যানসার কোষের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ডিএনএ চিনে নিতে দেশে প্রথম চালু হল ‘মলিকিউলার রেসিডুয়াল ডিজ়িজ় ব্লাড টেস্ট’ (এমআরডি)। শরীরের প্রতিটি কোষে আণবিক স্তরে কড়া নজর রেখে দেখবে যে, ক্যানসার কোষ বা কোষের কোনও সূক্ষ্ম অংশ ঠিক কোথায় লুকিয়ে রয়েছে। কেমোথেরাপি বা রেডিয়োথেরাপির পরে ক্যানসার সম্পূর্ণ রূপে নির্মূল না-ও হতে পারে। এর সামান্য অংশও যদি থেকে যায়, তা হলে আগামী দিনে ক্যানসার ফিরে আসার আশঙ্কা থেকে যায়। দেশে এতদিন অবধি এমন কোনও পরীক্ষা পদ্ধতি ছিল না, যা আণবিক স্তরে গিয়ে ক্যানসার কোষের ডিএনএ চিনে নেবে। সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতেই নতুন পরীক্ষাটি এসেছে।
মেডজ়িনোম নামক এক সংস্থা এই পরীক্ষা পদ্ধতিটি নিয়ে এসেছে, যার নাম ‘অনকোট্র্যাক এমআরডি’। পরীক্ষাটি করালে স্তন, কোলন, ফুসফুস, ডিম্বাশয়, প্রস্টেট ও অগ্ন্যাশয়ের টিউমার একেবারে আণবিক স্তরে চিহ্নিত করা যাবে।

কী কী পর্যবেক্ষণ করা যাবে নতুন পরীক্ষায়?

ক্যানসার কোষ যখন তৈরি হয়, তখন তার ডিএনএ এসে মেশে রক্তে। সেই জিনের রাসায়নিক বদল বা মিউটেশনও হতে শুরু করে। সাধারণ পরীক্ষায় এই বদলগুলি ধরা যায় না। ফলে ক্যানসার কোষ তৈরি হচ্ছে কি না, তা সঠিক ভাবে বোঝা যায় না অনেক সময়েই। এর জন্য জিনের পরীক্ষা করাতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। প্রথম বার রক্তেরই এমন পরীক্ষা আসছে, যা একেবারে জিনগত স্তরে গিয়ে ক্যানসার কোষ চিনতে পারবে। রক্তের নমুনা নিয়ে সেখানে ডিএনএ-র তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখবেন, এমন কোনও জিন আছে কি না, যার রাসায়নিক বদল (মিউটেশন) হয়ে ক্যানসার কোষের জন্ম হতে পারে। এই ডিএনএ-র টুকরোগুলিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় ‘সার্কুলেটেড সেল-ফ্রি ডিএনএ’ (সিসিএফডিএনএ)। সেগুলিকে চেনা যাবে রক্তের এই পরীক্ষায়।

গবেষকেরা জানাচ্ছেন, নতুন পরীক্ষাটি এতটাই উন্নত যে, রক্তের প্রতি ১০ লক্ষ জিনের মধ্যে মাত্র ৫০টি ক্যানসারের জিন থাকলেও তা আলাদা করে শনাক্ত করতে পারবে। ফলে শরীরের কোথাও ক্যানসারের জন্ম হচ্ছে কি না বা ক্যানসার সারিয়ে উঠেছেন এমন রোগীর শরীরে ফের তা ফিরে আসতে পার কি না, তা ধরা যাবে।

কাদের জন্য ভাল?

পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে, এমন লোকজন এই পরীক্ষাটি করালে উপকার পেতে পারেন। স্তন, কোল, ফুসফুস, প্রস্টেট, ডিম্বাশয় বা অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার আগে হয়েছিল বা চিকিৎসা চলছে, তাঁরা এই পরীক্ষাটি করালে শরীরের আর কোথাও ক্যানসার ছড়াতে পারে কি না, তা বোঝা যাবে। ক্যানসার ফিরে আসার ভয় বেশি থাকলে, পরীক্ষাটি করিয়ে রাখা ভাল।


এই বিভাগের আরো খবর