মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৯ অপরাহ্ন

৫২২ মিনিট ক্রিজ়ে থেকে ২৭০ রান ঈশানের

স্পোর্টস ডেস্ক
আপডেট : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দলীপের ফাইনালে অধিনায়কের ইনিংস খেলেছেন ঈশান কিশন। পূর্বাঞ্চলের হয়ে প্রথম ইনিংসে ৩৩৪ বলে ২৭০ রানের ইনিংস খেলেছেন। মেরেছেন ৩০ চার ও সাত ছক্কা। ৩০ বছর পর আবার দলীপে পূর্বাঞ্চলের হয়ে কেউ দ্বিশতরান করেছেন। কী ভাবে দক্ষিণাঞ্চলের বোলারদের সামলালেন, সেই রহস্য ফাঁস করেছেন ঈশান।

২৭০ রানের ইনিংসের পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড প্রকাশিত একটি ভিডিয়োয় ঈশান জানিয়েছেন চ্যালেঞ্জের কথা। সেই চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি ভালবাসেন। ঈশান বলেন, “বড় ম্যাচে অন্য রকমের চাপ থাকে। আমি সেই চ্যালেঞ্জটা নিতে ভালবাসি। আমার মনে হয় কঠিন পরিস্থিতিতেই আমার সেরাটা বেরিয়ে আসে। হ্যাঁ, শুরুতে একটু চাপ ছিল। সেটা থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঠিক করেছিলাম, খারাপ বল পেলে মারব। রানের গতি কমতে দেব না।”
শুরু থেকেই যে তিনি ছন্দে ছিলেন, সে কথা জানিয়েছেন ঈশান। তাতে আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছিল তাঁর। সেটা কাজে লাগিয়েছেন পূর্বাঞ্চলের অধিনায়ক। ঈশান বলেন, “বেশির ভাগ বল ব্যাটের মাঝে লাগছিল। সে রকম কোনও ঝুঁকিই নিতে হয়নি। বল ও ফিল্ডার দেখে খেলছিলাম। দ্রুত রান হচ্ছিল। যে ভাবে শট খেলছিলাম, তাতে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। বড় রান করতে চেয়েছিলাম। সেটা পেরেছি।”
গোটা ইনিংস জুড়ে যে একই ভাবে খেলেছেন তা নয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী তা বদলেছেন। বিশেষ করে বল পুরনো হয়ে যাওয়ার পর খেলার ধরন বদলাতে হয়েছিল। ঈশান বলেন, “বল পুরনো হয়ে যাওয়ার পর বড় শট মারা কঠিন হচ্ছিল। কারণ, বল নরম হয়ে গিয়েছিল। তাই বেশি শক্তি দিয়ে মারতে হচ্ছিল। তবে এই রকম পরিস্থিতির জন্যই তো অনুশীলন। সেখানে আমরা এ ভাবেই নিজেদের তৈরি করি।”
নিজের ব্যাটিংয়ের কথা ভাবেননি ঈশান। ভেবেছেন দলের কথা। কী ভাবে দলকে বড় রানে নিয়ে যাবেন, সেই পরিকল্পনা করেছেন। ঈশান বলেন, “মনে মনে কথা বলছিলাম। মনকে বোঝাচ্ছিলাম, কী ভাবে এগোব। ৪০০ হওয়ার পর বলছিলাম, এবার ৪৫০ করতে হবে। ৪৫০ করার পর ৫০০ রানের কথা ভাবছিলাম। এভাবেই এগিয়েছি। নিজের ব্যাটিংয়ের কথা নয়, দলের কথা ভাবছিলাম। কত বেশি রান করা যায় সেটাই মাথায় ছিল। যখন আপনি দলের কথা ভেবে খেলেন, তখন নিজের রানও বেড়ে যায়। সেটাই হয়েছে।”
একটা সময় দক্ষিণাঞ্চলের পেসারেরা লেগ সাইডে ফিল্ডিং সাজিয়ে ক্রমাগত শর্ট বল করে গিয়েছেন ঈশানকে। কী ভাবে সেই আক্রমণ সামলেছেন তা-ও জানিয়েছেন তিনি। ঈশান বলেন, “শর্ট বলের বিরুদ্ধে আমি অনেক অনুশীলন করি। তাই জানি, কোন বলটা ছাড়তে হবে আর কোন বলটা মারতে হবে। নিজেকে তৈরি রেখেছিলাম। জানতাম, শর্ট বল করলে আমি সহজে রান করতে পারব। আবার ফুল লেংথে বলের জন্যও তৈরি ছিলাম। অনুশীলনের সাফল্য পেয়েছি।”
তবে মহম্মদ সিরাজের বিরুদ্ধে কিন্তু অন্য পরিকল্পনা ছিল পূর্বাঞ্চলের অধিনায়কের। তিনি জানতেন, সিরাজের শর্ট বল বাকিদের থেকে খেলা কঠিন হবে। ঈশান বলেন, “সিরাজের বিরুদ্ধে আমার পরিকল্পনা অন্য রকম ছিল। জানতাম ওর শর্ট বল বাকিদের থেকে ভয়ঙ্কর। তাই ওর বিরুদ্ধে সামনের পায়েই তৈরি ছিলাম। শর্ট বল ছেড়েছি। মারার চেষ্টা করিনি। আমাদের লক্ষ্যই ছিল বড় জুটি বাঁধা। তার জন্য যেটা করা উচিত সেটাই করেছি।”


এই বিভাগের আরো খবর