মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০১:১১ পূর্বাহ্ন

টলিউডের বড় অংশের সঙ্গে দূরত্ব মমতার ?

নিউজ ডেস্ক :
আপডেট : শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৪

কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের জাঁকজমককে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গিয়েছেন তিনিই। ‘টেলিসম্মান’ বা ‘বঙ্গসম্মান’ প্রদানও তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত। সিনেমা জগতের লোকজনকে জনপ্রতিনিধি করে লোকসভা বা বিধানসভায় পাঠানোর বিষয়ে সম্ভবত রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন তিনিই। সেই তিনি— মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অধুনা টলিউডের বড় অংশের সঙ্গে ‘দূরত্ব’ রচনা করছেন। অন্তত দু’টি দৃষ্টান্ত তেমনই ‘ইঙ্গিত’ করছে। এক, শুক্রবার আলিপুরের ‘সৌজন্য’ গৃহে আসন্ন বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের প্রস্তুতি বৈঠকে আমন্ত্রিতদের তালিকা এবং দ্বিতীয়ত, কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নেতাজি ইন্ডোর থেকে ‘ধনধান্য’ প্রেক্ষাগৃহে স্থানান্তরণের সিদ্ধান্ত।কেন এমন সিদ্ধান্ত? পোশাকি কারণ, খুব জাঁকজমক না করে ‘ছোট’ করে অনুষ্ঠান করা। কিন্তু শাসক শিবির এবং প্রশাসনিক মহল জানে, কারণ আরজি কর আন্দোলন। তৃণমূলের এক ‘প্রভাবশালী’ এবং মুখ্যমন্ত্রীর ‘আস্থাভাজন’ নেতার কটাক্ষ, ‘‘আরও কালো পোশাক পরে রাস্তায় নামো!’’

কটাক্ষের লক্ষ্য খুব স্পষ্ট। আরজি কর-কাণ্ডের পরে ‘নাগরিক আন্দোলনে’ শামিল হয়েছিলেন টলিউডের অনেকে। কেউ কেউ সরাসরি নাগরিক মিছিলে না হেঁটে পৃথক ভাবেও মিছিল করেছিলেন। ‘বিচার’ চেয়ে স্লোগান দিয়েছিলেন। এমনকি, শাসকদল তথা সরকার এবং কলকাতা পুলিশের ভূমিকার কড়া সমালোচনাও করতে পিছপা হননি। তারকাদের অনেকে টালিগঞ্জের স্টুডিয়োর সামনে জমায়েত হয়ে আরজি কর হাসপাতালের সামনে যাওয়ার কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন। ঘটনাচক্রে, তখন শ্যামবাজার থেকে আরজি কর পর্যন্ত জমায়েত বা মিছিল ‘নিষিদ্ধ’ ছিল। তাতে দমেননি টালিগঞ্জের ওই ‘ক্ষুব্ধ’ তারকারা। বাস ভাড়া করে ‘খন্না সিনেমা’ পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত মিছিল করেছিলেন তাঁরা। সেই মিছিলে যেমন ছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, অঙ্কুশ হাজরা, আবির চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়েরা, তেমনই ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক তথা পরিচালক রাজ চক্রবর্তী (তবে রাজকে তার পর থেকে আর মিছিলে দেখা যায়নি)। ছিলেন রাজের স্ত্রী অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ও। প্রতিবাদ প্রদর্শনে অধিকাংশেরই পরনে ছিল কালো পোশাক।

আবার স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, দেবলীনা দত্ত, সোহিনী সরকার, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, বিদীপ্তা চক্রবর্তীদের মতো অভিনেত্রীরা নাগরিক মিছিলে পা মেলানোর পাশাপাশি ধর্মতলায় রাতভর অবস্থান করেছিলেন। অনেকে রাস্তায় না-নামলেও সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছিলেন, যেখানে সরকারের কঠোর সমালোচনা ধ্বনিত হয়েছিল। যেমন সেন্ট জেভিয়ার্সের প্রাক্তনীদের ডাকা মিছিলে দক্ষিণ কলকাতায় পা মিলিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, পাওলি দাম, অরিন্দম শীল, টোটা রায়চৌধুরীরা।

আরজি কর-কাণ্ড নিয়ে আন্দোলনের সময় থেকেই নবান্নের সঙ্গে টালিগঞ্জের একটি অংশের ‘দূরত্ব’ বাড়তে থাকে। কারণ হিসেবে তৃণমূলের এক নেতা কড়া মন্তব্যই করেছেন, ‘‘এরা শুধু নিজেদের দিকটাই দেখে!’’ এক ধাপ এগিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ, ‘‘সরকারকে শুধু মনে পড়ে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা নেওয়ার সময়।’’যদিও সরকারের থেকে ‘সুযোগ-সুবিধা’ না-নেওয়ার উদাহরণও কম নয়। টালিগঞ্জের অনেক শিল্পী আছেন, যাঁরা সরকারের ‘ঘনিষ্ঠ’ নন। বা সরকারি অনুষ্ঠানে কোনও ভূমিকা পালন করেন না। ঘটনাচক্রে, আরজি করের আন্দোলন চলাকালীন কয়েক জন শিল্পী রাজ্যে সরকারি পুরস্কার এবং খেতাবও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা ‘পরিচিত’ তৃণমূল তথা বর্তমান সরকারের বিরোধী।

এই আবহেই শুক্রবার ‘বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন’-এর প্রস্তুতি বৈঠক উপলক্ষে আলিপুরের ‘সৌজন্য’ গৃহে একটি বৈঠক ডেকেছে রাজ্য সরকার। সেখানে উপস্থিত থাকবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সেখানে আমন্ত্রিতদের তালিকায় টালিগঞ্জের শিল্পীদের ‘বাড়াবাড়ি’ নেই। তবে সূত্রের খবর, অভিনেতা দেবকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি অবশ্য তৃণমূলের সাংসদ। প্রশাসনিক স্তরের একটি সূত্রের বক্তব্য, প্রথমে যখন অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা করা হয়, তখন ঠিক হয়েছিল, বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের প্রস্তুতি বৈঠকের পাশাপাশিই বাৎসরিক বিজয়া সম্মিলনীও করা হবে। দ্বিতীয় অনুষ্ঠানটিতে বরাবরই টলিউড এবং টেলিউডের কলাকুশলীদের বড় অংশ আমন্ত্রিত থাকেন। পরে ঠিক হয়, আমন্ত্রিতের তালিকা ‘সীমিত’ রাখা হবে। একই ‘মডেল’ রাখা হচ্ছে আসন্ন কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও। চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে মমতাই প্রথম নন্দনের ‘ঘেরাটোপ’ থেকে বাইরে এনে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে শুরু করেছিলেন। এ বার সেই অনুষ্ঠান করা হবে আলিপুরের ‘ধনধান্য’ প্রেক্ষাগৃহে। সেখানে স্থান সঙ্কুলান কম। ফলে ‘গণহারে’ আমন্ত্রণও জানানো হবে না। বেছে বেছে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হবে। সূত্রের খবর, সেখানেও কাটছাঁট হবে টলিউডের অতিথি তালিকায়।


এই বিভাগের আরো খবর