গত ১০ বছর ধরে সিপিএম বলে আসছে, বাংলায় তাদের লড়াই তৃণমূল এবং বিজেপি উভয় দলের বিরুদ্ধেই। কিন্তু ফলিত স্তরে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে বামেদের তৃতীয় স্থানে সরিয়ে দিয়ে বিজেপি হয়ে উঠেছে প্রধান বিরোধী দল। ভোটচিত্র বলছে, বামেদের ভোট গণহারে গিয়ে পড়েছে বিজেপির বাক্সে। এই পরিস্থিতিতে সিপিএমের সাংগঠনিক সম্মেলন প্রক্রিয়ায় বার বার উঠে আসছে দুই শত্রুর ‘গোলকধাঁধায়’ পড়ার কথা। এরিয়া স্তরের সম্মেলন তো বটেই, এখনও পর্যন্ত যে কয়েকটি জেলার সম্মেলন হয়েছে, সেখানেও এই প্রসঙ্গই উঠে এসেছে।
সিপিএমের সম্মেলনে আলোচিত হচ্ছে সেই প্রসঙ্গও। বলা হচ্ছে, পরিস্থিতি যে জায়গায় গিয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষ তো বটেই, দলের নিচুতলার সদস্যেরাও ‘বিভ্রান্ত’। আলোচনায় এ-ও উঠে আসছে যে, আদর্শগত প্রশ্নে বিজেপির বিরুদ্ধে কথা বললে জনমানসে তৃণমূল সম্পর্কে নরম বার্তা যাচ্ছে। তৃণমূলকে নিশানা করলে তা বিজেপির ‘সুর’ বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু দু’দলকে একই বন্ধনীতে ফেলে আক্রমণ করলে সেটাও ধোপে টিকছে না।
সর্বভারতীয় স্তরে একটা সময়ে বিজেপি এবং কংগ্রেসের সঙ্গে ‘সমদূরত্বের’ নীতি নিয়ে চলত সিপিএম। মোদী সরকারের প্রথম মেয়াদেই দলের সেই ‘লাইন’ পরিবর্তন করে দেশের রাজনীতিতে বিজেপিকে ‘বড় বিপদ’ বলে স্বীকার করেছে একে গোপালন ভবন। ফলে জাতীয় স্তরে সিপিএম সেই নীতিতেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানে প্রতিপক্ষ একটি। কিন্তু রাজ্য স্তরে পরিস্থিতি ভিন্ন। যেমন কেরলে বামেদের প্রধান প্রতিপক্ষ কংগ্রেস। কিন্তু সেখানে এখনও রাজনৈতিক অক্ষ বাম-কংগ্রেসে দ্বিমেরু। বিজেপি সেখানে প্রান্তিক শক্তি। পশ্চিমবঙ্গে যেমন বিজেপির উত্থানে বামেরা প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত। যার ফলে ১৩ বছর আগে যে দল রাজ্য শাসন করত, আট বছর আগে যে দল ছিল প্রধান বিরোধী, তিন বছর আগে বিরোধী পরিসরে যে শক্তি ছিল ‘উল্লেখযোগ্য’, এখন তারাই প্রান্তিক। যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুই শত্রুর গোলকধাঁধা।