একই ধরনের জিনিস। কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন কর। যেমন, বেশি দামের জিনিসে বেশি কর। আবার কম কর কম দামের জিনিসে। এতকাল এটাই ছিল জিএসটি কাঠামোর উপজীব্য বিষয়। অনেকে বলেন, ভোট-রাজনীতি নজরে রেখে এই কর কাঠামো চলছিল। কিন্তু তাতে প্রত্যাশামতো ঘুরে দাঁড়ায়নি দেশের অর্থনীতি! তা নজরে রেখেই এ বার আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল কেন্দ্রীয় সরকার। নয়া জিএসটি কাঠামো দেখে তাই অনেকেই বলছেন, আদতে নিজের ভুলই শোধরালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
বাস্তবেও তা-ই হল। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস, বাইক-গাড়ি, বিমা— সব ক্ষেত্রেই সুরাহা দিল সরকার। নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হবে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে। মনে করা হচ্ছে, জিএসটির হার কমানোর ফলে জিনিসপত্র কেনাবেচা বাড়বে এবং এই পন্থা অর্থনীতির দাওয়াই (স্টিমুলাস) হিসেবে কাজ করবে। ফলে চাঙ্গা হবে অর্থনীতি। প্রধানমন্ত্রী নিজেও তাঁর এক্স হ্যান্ডলে বলেছেন, স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতাতেই তিনি জিএসটির হারে সংস্কার করার কথা বলেছিলেন। কেন্দ্র জনগণকে সুরাহা দেওয়ার লক্ষ্যে সেই কাজটিই করেছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মত, নয়া জিএসটি কাঠামোয় ক্রেতাদের মধ্যে আচরণগত বদল দেখা যেতে পারে ভবিষ্যতে। শুধু মধ্যবিত্ত ক্রেতাই নন, লাভবান হবেন উচ্চবিত্তেরাও। প্যাকেটজাতীয় জাতীয় নিত্যপণ্য যেমন ঘি, মাখন, মাংস, কফি, মুখরোচক খাবার ইত্যাদি জিনিসের কর কমে ৫ শতাংশ হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই দাম কমবে। ফলে তাতে বাজারে এ সব জিনিসের চাহিদা বাড়বে। ফলে বিক্রিও বাড়বে। ঘরে তৈরি চিজ়-পনিরেও কর ছাড় দেওয়া হয়েছে, যাতে বিক্রি বাড়ে। এই ধরনের ছোটশিল্পকে উৎসাহ দেওয়াও লক্ষ্য ছিল সরকারের।