গত সপ্তাহেই ফলাও করে প্রাথমিক স্তরে পরীক্ষা পদ্ধতি বদলের ঘোষণা করেছিল পর্ষদ। বছরের শুরুতে পর্ষদের সেই ঘোষণাকে বাতিল করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারের শীর্ষ স্তরে আলোচনা না করে ‘নীতিগত সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার কারণে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে প্রকাশ্যে ধমকও শুনতে হল মুখ্যমন্ত্রীর।
উল্লেখ্য, প্রাথমিকে সিমেস্টার পদ্ধতি চালু হলে ‘হোলিস্টিক রিপোর্ট কার্ডে’ আর্থিক ক্ষতি হত বলে শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর। ইতিমধ্যেই ‘হোলিস্টিক রিপোর্ট কার্ড’ চালুর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সিমেস্টার আছে, ঠিক আছে। সেখানকার ছাত্রছাত্রীরা অভ্যস্ত। তাই বলে প্রাথমিক স্কুলে?’’
গত শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে নতুন পদ্ধতির কথা ঘোষণা করেছিলেন পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল। নতুন পদ্ধতির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ক্রেডিট বেসড সিমেস্টার সিস্টেম’। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই পদ্ধতিতে প্রাথমিকের পড়ুয়াদের মূল্যায়ন হবে বলে জানানো হয়েছিল। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে এই পদ্ধতি চালু করার কথা ঘোষণা করেছিলেন গৌতম। পর্ষদের তরফে এ-ও জানানো হয়েছিল যে, ২০২৫ সালের শিক্ষাবর্ষে পুরনো পাঠ্যক্রমে পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিকের পাঠ্যক্রমে বদল আসবে। ইতিমধ্যেই এ ব্যাপারে শিক্ষা দফতরের অনুমতি মিলেছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর ভর্ৎসনার পরে সেই পর্ষদ সভাপতিই সুর বদলে ফেলেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা এখনও পর্যন্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনি। এমনকি, নোটিফিকেশনও (সরকারি বিজ্ঞপ্তি) করিনি। সেই পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করুন। ৮ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত স্টুডেন্ট উইক চলছে। তার মধ্যে আমরা সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।’’