২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে যে অস্বস্তি ও তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, নতুন বিএনপি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা ও দিল্লি তা নতুন করে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছে।
ভারতীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত বছর নিরাপত্তার কারণে ভিসা সেবায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও তা পুরোপুরি বন্ধ ছিল না। মেডিক্যাল ও পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে সে সময়ও কেস-টু-কেস ভিত্তিতে ভিসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সক্ষমতার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে ভিসা কার্যক্রম চলছে। নতুন ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নেওয়ার পর ভিসা পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারত সফরকালে ভিসা স্বাভাবিক করার বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি ঢাকা সফর করেন, যারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিসা প্রক্রিয়া উভয় দিকে পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে দুই দেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও জ্বালানি সংযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোনিবেশ করবে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সম্প্রতি ভারত বাংলাদেশকে ডিজেল পরিবহন করে সহযোগিতা করেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক আলোচনারও সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিসংখ্যান যা বলছে
ভারতে বিদেশি পর্যটক আগমনের ২০ শতাংশেরও বেশি আসে বাংলাদেশ থেকে। ভারত সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২১ লাখ ২০ হাজার এবং ২০২৪ সালে ১৭ লাখ ৫০ হাজার পর্যটক ভারতে গিয়েছিলেন। তবে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভিসা বিধিনিষেধের কারণে ২০২৫ সালে এই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে চার লাখ ৭০ হাজারে নেমে আসে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেটে ভারতীয় মিশনের বাইরে বিক্ষোভের ঘটনার পর ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সীমিত করা হয়েছিল। এখন সম্পর্কের এই নতুন মোড়ে দুই দেশই হারানো সেই স্বাভাবিকতা ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।







