ছিল তৃণমূলের ইস্তাহার প্রকাশের কর্মসূচি। শুক্রবারের সেই কর্মসূচিতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের প্রসঙ্গে মন্তব্য করলেন। তিনি জানালেন, সূত্র মারফত তাঁর কাছে খবর আছে, প্রায় ৬০ লক্ষের মধ্যে এ পর্যন্ত ২২ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। সেই ২২ লক্ষ ৬০ হাজারের মধ্যে ১০ লক্ষ নাম বাদ পড়বে বলে জানতে পেরেছেন তিনি। সেখানে মালদহ, মুর্শিদাবাদ, দুই দিনাজপুরে সবচেয়ে বেশি নাম রয়েছে। শুধু তাই নয়, মমতা জানতে পেরেছেন, একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বেশি বাদ পড়েছে। এ ছাড়া হিন্দু, মতুয়া, রাজবংশী সম্প্রদায়েরও মানুষও রয়েছেন।

ইস্তাহার প্রকাশের আগে মমতা বলেন, সূত্র মারফত তিনি জানতে পেরেছেন, নিষ্পত্তি হওয়া বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে কত নাম বাদ পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রায় ৬০ লক্ষের মধ্যে এ পর্যন্ত ২২ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে বলে শুনেছি। এ-ও শুনেছি, ২২ লক্ষ ৬০ হাজারের মধ্যে ১০ লক্ষ নাম বাদ পড়বে। তাতে মালদহ, মুর্শিদাবাদ, দুই দিনাজপুরে সবচেয়ে বেশি নাম রয়েছে। পার্টিকুলার কমিউনিটির মানুষ রয়েছেন সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া হিন্দু, মতুয়া, রাজবংশী সম্প্রদায়েরও মানুষও রয়েছেন।’’
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আমলা বা পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অভিযোগ থাকতে হয়। তা ছাড়া যাঁরা নির্বাচনের কাজে যুক্ত থাকেন, তাঁদের বদলি হয়। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে যে ভাবে একের পর এক আমলা এবং পুলিশকর্তার বদলি করা হচ্ছে, তাতে রাজ্য বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘মানুষ খাদ্য পাবে কোথা থাকে? রেশন বন্ধ হয়ে গেলে যেন আমাকে দোষ দেবেন না। আমি তো রেশন দিতে চাই। কিন্তু এখানকার ফুড ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে নিয়ে গিয়েছে অবজ়ার্ভার করে। কখনও শুনেছেন? এঁরা নির্বাচনের কাজে যুক্ত ছিলেন না। এরা উন্নয়নের কাজের দেখাশোনা করতেন। পঞ্চায়েত দফতরের আধিকারিককে বলছে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হয়ে যেতে! ঝড়-জলে রাস্তা ভেঙে গেলে, দুর্যোগ হলে পিডব্লিউডি- প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির বড় ভূমিকা থাকে। তাঁকেও অবজ়ার্ভার করে নিয়ে চলে যাওয়া হয়েছে।’’

এখানেই শেষ নয়। মমতার দাবি, বিজেপির অনেক দিনের ‘টার্গেট’ পশ্চিমবঙ্গকে এ বার যে ভাবে হোক দখল করতে হবে। সে জন্য রাজ্যকে ভাগ করারও কথা চলছে! তাঁর কথায়, ‘‘ওদের প্ল্যান (পরিকল্পনা) আছে, উত্তরবঙ্গ বাদ দিয়ে বিহারের কিছু অংশ নিয়ে আবার নতুন রাজ্য তৈরি করার।’’ ওই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘‘এ দেশে সংবিধান, আইন— সব কিছু মোদী সরকার কিনে নিয়েছে।’’ পরক্ষণেই নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে বলেন, ‘‘আমরা শুনেছি, এই ভোটের পরে আবার ‘ডিলিমিটেশন’ করবে। আগামী বার মোদী সরকার জিতবে না। ক্ষমতায় আসবে না। তাই ‘ডিলিমেটেশন’, এনআরসি এবং সেন্সাসের নাম করে আরও মানুষের নাম বাদ দেওয়াই ওদের পরিকল্পনা।’’