মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন

তৃণমূল সাংসদ নাদিমুলের বাড়ি ও দফতরে হানা দিল ইডির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক নিউজ
আপডেট : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অভিযোগ উঠেছিল, সংবাদপত্রে ধর্মীয় ‘উস্কানিমূলক’ খবর প্রকাশিত হয়েছে। কলকাতা, রাঁচি এবং দিল্লি থেকে উর্দুতে প্রকাশিত এই সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে অগস্ট মাসে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হওয়া এই অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়েই বিপুল আর্থিক দুর্নীতির প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের। প্রায় ৪৬ বছরের পুরনো এই সংবাদপত্রের বর্তমান ডিরেক্টরদের মধ্যে অন্যতম তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মহম্মদ নাদিমুল হক। বাকি ডিরেক্টরেরাও তাঁর পরিবারের সদস্য।

বিধাননগরের নাওভাঙা এলাকার এক বাসিন্দা পুলিশে অভিযোগ করেছিলেন, ওই উর্দু সংবাদপত্রে নিয়মিত এমন কিছু ধর্মীয় উস্কানিমূলক খবর প্রকাশিত হচ্ছে, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং জাতীয় সংহতির পক্ষে ক্ষতিকারক।

বিধাননগর পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক ভাবে এই অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়েই সংবাদপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত একটি মোবাইল নম্বরের হদিস মেলে। সেই ফোন নম্বরের সূত্র ধরে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টের খোঁজ পাওয়া যায়। তদন্তে উঠে আসে, ওই অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক বিপুল অর্থের লেনদেন। বিষয়টি রিপোর্ট আকারে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সংশ্লিষ্ট সহকারি পুলিশ কমিশনারকে জানান সেই তদন্তকারী আধিকারিক। সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের বিষয় থাকায় পরবর্তী কালে তদন্তভার নেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

সোমবার কলকাতায় সংবাদপত্রের দফতর থেকে শুরু করে রাঁচি, দিল্লি-সহ নাদিমুলের একাধিক ঠিকানায় মধ্যরাত পর্যন্ত তল্লাশি করে। বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস ইডি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ইডি সূত্রের খবর, তল্লাশির শুরুতেই নাদিমুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি শহরের বাইরে ছিলেন। রাতে কলকাতায় ফিরলে তাঁকে নিয়ে পার্ক সার্কাসে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি করা হয়।

তদন্তকারীদের দাবি, তল্লাশি অভিযানে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি মিলেছে, যা থেকে একাধিক অনিয়ম প্রকাশ্যে আসছে। সংবাদপত্র ছাড়াও আরও একটি সংস্থার ডিরেক্টর নাদিমুল। দু’টি সংস্থারই আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখে তদন্তকারীদের দাবি, হিসাব বহির্ভূত টাকার লেনদেন হয়েছে এবং সেই টাকার উৎস জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। সন্দেহজনক লেনদেন ঠিক কত টাকার, তা নিয়ে ইডি আধিকারিকেরা নির্দিষ্ট ভাবে কিছু না জানালেও, টাকার অঙ্ক যে বেশ কয়েক কোটি তার ইঙ্গিত মিলেছে ইডির তরফে।

তবে গোটা ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসাবে বর্ণনা করেছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সাংসদদের ভয় পায় বলেই ইডিকে ব্যবহার করছে বিজেপি। অন্য দিকে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডেরেক ও’ব্রায়েনও ইডির অভিযানকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিযোগ করেছেন। ডেরেক জানান, অভিযানের সময় নাদিমুল সংসদের ‘গভর্নমেন্ট অ্যাসিওর‌্যন্স কমিটি’-র কাজে রাঁচিতে ছিলেন। পরে কলকাতায় ফিরলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।


এই বিভাগের আরো খবর