ভুয়ো পাসপোর্ট-কাণ্ডে আরও এক জনকে গ্রেফতার করেছে লালবাজার। ধৃতের নাম দীপঙ্কর দাস। মঙ্গলবার রাতে তাকে পর্ণশ্রী থানা এলাকার বেচারাম চ্যাটার্জি স্ট্রিট থেকে ধরে লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। দীপঙ্করকে জেরা করে হরিদেবপুর থানা এলাকার মতিলাল গুপ্ত রোডের একটি অফিসে হানা দিয়ে গোয়েন্দারা প্রচুর জাল নথি, নথি তৈরিতে ব্যবহৃত কম্পিউটার, প্রিন্টার এবং অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছেন। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে দু’টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সিল এবং ৩৬টি ভারতীয় পাসপোর্টের ফোটোকপি। মিলেছে শেনগেন এবং ব্রিটেনের ভিসাও। সেই সঙ্গে এ দিন উত্তর ২৪ পরগনার বেশ কয়েকটি জায়গাতেও অভিযান চালান তদন্তকারীরা।
ধৃতদের জেরা করে পুলিশ প্রাথমিক ভাবে মনে করছে, শুধু কলকাতাতেই ভুয়ো নথি দিয়ে তিন হাজারেরও বেশি পাসপোর্ট তৈরি করেছে সমরেশ ও তার দলবল। সেই সঙ্গে কলকাতার বাইরে জেলাতেও একই কায়দায় প্রচুর ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে গোয়েন্দারা জেনেছেন, এই ভুয়ো পাসপোর্ট নিয়ে ৭৩ জন ইতিমধ্যেই বিদেশে পৌঁছেছে। তাদের সম্পর্কে খোঁজখবরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ
করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ভুয়ো পাসপোর্ট চক্রে বেশ কয়েক জন এজেন্টও জড়িত। যারা মূলত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। তারাই সমরেশ এবং রিপনের সঙ্গে বাংলাদেশিদের যোগাযোগ করিয়ে দিত। এর পরে সমরেশের নির্দেশে জাল নথি তৈরি করে দিত দীপঙ্কর। তবে, প্রতিটি পাসপোর্ট আবেদনকারীর হাতে দেওয়ার আগে তার পুলিশি যাচাই করা হয়ে থাকে। ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরির সময়ে কেন পুলিশি যাচাই হয়নি, বা তা হলেও সেটি কী ভাবে পুলিশকর্মীদের নজর এড়িয়ে গেল, সব কিছুই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।