তন্ময় ভট্টাচার্যকে ছয় মাসের জন্য দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে সাসপেন্ড করতে চলেছে সিপিএম। বুধবার সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীর বৈঠক হয়। ওই বৈঠকেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ এবং ৩১ ডিসেম্বর দলের রাজ্য কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে প্রস্তাব পেশ করা হবে। রাজ্য কমিটিতে সংখ্যার যে সমীকরণ, তাতে এই প্রস্তাব পাশ হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। তবে তন্ময় সিপিএমের উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য। তাই তাঁর সাসপেনশনে অনুমোদন প্রয়োজন কেন্দ্রীয় কমিটির। তবে সেটিও একেবারেই ঔপচারিকতা বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্য কমিটি সিলমোহর দেওয়ার পর সেই প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন না দেওয়ার নজির সিপিএমে সচরাচর নেই।
দলের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, তাতে কমিটি জানিয়েছে, তন্ময়ের বিরুদ্ধে মহিলা সাংবাদিকের অভিযোগের অকাট্য প্রমাণ হিসেবে ছবি বা ভিডিয়ো পাওয়া যায়নি। কিন্তু অন্য সাক্ষ্যপ্রমাণ নিয়ে দেখা গিয়েছে, তন্ময়ের এ ধরনের ‘ধারাবাহিক প্রবণতা’ রয়েছে। শুধু সাংবাদিক মহলে নয়, দলের মধ্যেও এ ধরনের কথা রয়েছে বলে জানতে পেরেছে কমিটি। সিপিএমের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি রিপোর্টে স্পষ্ট বলেছে, অশালীন এবং অভব্য আচরণের জন্য তন্ময়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হোক। সেই মতোই ৬ মাসের জন্য দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে তাঁকে সাসপেন্ড করার পথে এগোচ্ছে সিপিএম।
দলের এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ফলে তন্ময় উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সম্মেলনে যেতে পারবেন না। তন্ময়-ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, জেলা সম্মেলনে তাঁকে আটকানোর জন্যই দলের একাংশ থেকে অন্তর্ঘাত হয়েছে। তন্ময়ের শাস্তি পাওয়ার গুঞ্জন সিপিএমের মধ্যে রটতেই, তাঁর ঘনিষ্ঠেরা এই তত্ত্ব তুলে ধরতে শুরু করেছেন।